বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দাম ওঠানামা করছে ব্যাপকভাবে, যা বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতা—দু’পক্ষকেই উদ্বেগে ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলার সূচকের উত্থান-পতন, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার নীতি, মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, এবং চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি—এই চারটি কারণই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে।
🔸 মূল কারণসমূহ
1. ডলারের মান পরিবর্তন:
স্বর্ণের দাম সাধারণত ডলারের বিপরীতে চলে। ডলারের মান কমলে স্বর্ণের দাম বাড়ে, আবার ডলার শক্তিশালী হলে সোনার দাম কমে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলার কিছুটা দুর্বল হওয়ায় স্বর্ণের দাম বেড়ে যায়, তবে পরবর্তীতে আবার ডলার শক্তিশালী হওয়ায় দাম কমে আসে।
2. সুদহার বৃদ্ধি:
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বন্ড ও শেয়ারের দিকে ঝুঁকছেন, ফলে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমে গেছে। এতে দামেও চাপ পড়েছে।
3. ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা:
ইসরায়েল-গাজা ও ইউক্রেন যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। যুদ্ধ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে দাম বাড়ে, আবার শান্ত পরিস্থিতিতে দাম নেমে আসে।
4. চাহিদা ও সরবরাহ:
ভারত ও চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণভোক্তা দেশ। এসব দেশে উৎসব মৌসুমে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে, যা দামের ওপর প্রভাব ফেলে।
🔸 বর্তমান বাজারচিত্র
২০২৫ সালের নভেম্বরের শুরুতে লন্ডন বুলিয়ন মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২,৩৫০ থেকে ২,৩৮০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। আগের মাসের তুলনায় এটি প্রায় ১.৫% বেশি।
🔸 ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসে বা বৈশ্বিক সংঘাত বাড়ে, তবে স্বর্ণের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিপরীতে, যদি অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়, তবে দাম কিছুটা কমে যেতে পারে।
📈 সংক্ষেপে:
স্বর্ণের বাজার বর্তমানে এক অনিশ্চিত অবস্থায় আছে। বিনিয়োগকারীদের তাই ঝুঁকি ও নিরাপত্তা—দুটিই বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।




