বাংলাদেশের বহুল আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ (ICT-1)। সোমবার সকাল ১১টায় তিন সদস্যবিশিষ্ট বিচারক বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র আন্দোলন দমনে নির্দেশনা ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে এ রায় দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনাল জানায়, রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, গোলাগুলি, অগ্নিসংযোগ এবং হত্যা—এসব অভিযোগে পাঁচটি পৃথক ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় শেখ হাসিনা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না; তিনি বর্তমানে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
রায় ঘোষণার পরপরই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। কয়েকটি এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে।
রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শেখ হাসিনা এটিকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাংশ রায়কে “অতীতের দায় পরিশোধের ইতিহাস তৈরি” হিসেবে দেখছে।
প্রসিকিউশন বলেছে, রায়ের পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। রায়টি এখন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।




