আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সারা দেশজুড়ে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল নরসিংদীর মাধাবদি এলাকায়, যা রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে। বাংলাদেশ আবহাওয়া দপ্তর জানায়, কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৭, আর মার্কিন সংস্থা USGS জানিয়েছে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প।
ভবন কাঁপন ও রাস্তায় আতঙ্ক
হঠাৎ তীব্র দোলায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ বাড়ি ও অফিস থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। উঁচু ভবনগুলো কয়েক সেকেন্ড ধরে দুলতে থাকে, সৃষ্টি হয় ব্যাপক আতঙ্ক।
ঢাকার আর্মানিটোলা এলাকায় একটি ভবনের অংশ ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর
দেশব্যাপী এ ভূমিকম্পে ৩ থেকে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ। রাজধানীর NITOR হাসপাতালে একাই ৮০-এর বেশি আহত রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছেন বলে জানা গেছে।
অনেকেই নেমে আসার সময় সিঁড়ির ভিড়ে পড়ে গিয়ে বা মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হয়েছেন। বাইরে আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়েও নানা দুর্ঘটনা ঘটেছে।
আন্তর্জাতিকভাবে অনুভূত কম্পন
ভূমিকম্পের কম্পন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতেও অনুভূত হয়। কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের কিছু জায়গায় ভবন দুলে ওঠার রিপোর্ট পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
ভূমিকম্পটি মাধুপুর ফল্টলাইনে হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। তারা সতর্ক করেছেন, আগামী কয়েক ঘণ্টা বা দিনের মধ্যে পরবর্তী কম্পন (aftershock) হতে পারে।
এ কারণে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং ভবনের নিরাপত্তা পরীক্ষার পরই ভেতরে প্রবেশের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্য নির্দেশনা
অপ্রয়োজনে ভবনে না ওঠা
ফাটল দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরীক্ষা করানো
লিফট ব্যবহার না করা
জরুরি নম্বর (ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন) হাতের কাছে রাখা
শেষ কথা
ঢাকার নিকটবর্তী এলাকায় এমন মাত্রার ভূমিকম্প সাম্প্রতিক সময়ে খুব কম ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে বড় ধরনের কম্পনের ঝুঁকি থাকায় এখনই ভবনগুলো পরীক্ষা ও প্রস্তুতি জোরদারের সময়।




