দেশে ক্রমবর্ধমান গ্যাস সংকট সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও শিল্পখাতের ওপর তীব্র প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় উৎপাদনের কমতি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতি এবং অবকাঠামোর দুর্বলতা সমস্যার মূল কারণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের দৈনিক গ্যাস চাহিদা প্রায় ৩,৮০০ মিলিয়ন ঘন ফুট হলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২,৫২৬ মিলিয়ন ঘন ফুট। ফলে ঘরোয়া রান্নাঘরে গ্যাসের চাপ কমে যাচ্ছে, অনেক এলাকায় দিনভর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকে। সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক রান্নার বিকল্প ব্যবহারের কারণে খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
সিএনজি চালিত পরিবহন সেক্টরে গ্যাসের সংকট মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। রাজধানীসহ বড় শহরের অনেক সিএনজি স্ট্যান্ডে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।
শিল্পখাতেও সমস্যার মাত্রা গুরুতর। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানাগুলো উৎপাদন হ্রাসের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে উৎপাদন ৭০–৯০ শতাংশ কমে গেছে, যা রপ্তানি খাতেও প্রভাব ফেলছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনেও গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো অর্ধেক ক্ষমতায় কার্যকর হচ্ছে এবং সরকারের দামের ওপর ভর্তুকি বাড়ছে।
সরকারি ও বেসরকারি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন গ্যাস খনন, বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার এবং বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। এছাড়া সাধারণ মানুষকে গ্যাস অপচয় কমানোর জন্য সচেতন করা জরুরি।
বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে গ্যাস সংকট দেশের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনকে দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রভাবিত করতে পারে।




