গাজীপুর, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার জরুন বস্তিতে আজ সন্ধ্যায় ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০০টি ঘর মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে পুরো বস্তির বড় অংশ অগ্নিদগ্ধ হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
■ ঘটনাস্থলে আতঙ্ক
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৫টার দিকে একটি টিনশেড ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন পাশের ঘরগুলোয় ছড়িয়ে পড়ে। ঘরগুলো অধিকাংশই টিনশেড এবং ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
আগ্নিকাণ্ডের সময় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকে ঘর থেকে বের হতে না পেরে চিৎকার করছিলেন। তবে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে শিশু ও বয়স্কদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
■ ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধাকাজ
আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কমপক্ষে ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। পানি সংকট ও ঘিঞ্জি পরিবেশের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় বলে জানিয়েছেন তারা।
ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা জানান, “ঘরগুলো টিনশেড এবং একেবারে ঠাসাঠাসি নির্মিত হওয়ায় আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে।”
■ ক্ষয়ক্ষতি
প্রায় ১০০টি ঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। অনেক পরিবার রাতারাতি গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং তাদের যাবতীয় আসবাব, জামাকাপড়, নথিপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী আগুনে নষ্ট হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে কয়েকজন সামান্য দগ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
■ আগুনের কারণ
আগুন লাগার সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত না হলেও স্থানীয়দের ধারণা—বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূচনা হতে পারে। ফায়ার সার্ভিস বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
■ প্রশাসনের তৎপরতা
ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
■ পুনর্বাসনের দাবি
ঘর হারানো মানুষরা রাত কাটানোর অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। অনেকেই বলছেন, আগুনের ভয়াবহতা দেখে তারা এখন নিরাপদ স্থানে নতুন করে ঘর নির্মাণে সরকারি সহায়তা চান।




